Nikola Tesla (A genius 1 in few millions)
Nikola Tesla (A genius 1 in few millions)
নিকোলা টেসলা
পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে রহস্যময় ও বিস্ময়কর বিজ্ঞানী ছিলেন “নিকোলা টেসলা”। যিনি সত্যি পুরো আধুনিক পৃথিবীটাকে আমাদের দিয়ে গেছেন। নিকোলা টেসলার জন্ম জুলাই ১০,১৮৫৬ সালে স্মিলজান, ক্রোয়েশিয়াতে। কথিত আছে, টেসলার জন্ম হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের রাতে।
এরকম ঘটনাকে অশুভ সংকেত মনে করে সেই সময়ে ধাত্রী টেসলাকে ‘অন্ধকারের সন্তান’ (Child Of Darkness) বলেন। কিন্তু এতে টেসলার মা অপমানিত বোধ করে এর বিরোধিতা করে বলেন, টেসলা হবে ‘আলোর সন্তান’(Child of Light)।
তিনি গ্রাজ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (১৮৭৫-১৮৭৮), গিম্নাজিজা কার্লোভাক (১৮৭০-১৮৭৩), গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন। নিকোলা টেসলা ছিলেন একজন সার্বিয়ান-আমেরিকান উদ্ভাবক, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, যান্ত্রিক প্রকৌশলী এবং ভবিষ্যতবিদ।
যিনি আধুনিক বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নকশায় তাঁর অবদানের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
আপনি হয়তো অনেক কিছু জানেন না তার আবিষ্কার সম্পর্কে। যার ছিলো ৩০০ টির বেশি আবিষ্কারের পেটেন্ট এবং তার আবিষ্কারগুলো সময়কে ছাপিয়ে গিয়েও অনেক আধুনিক যা বর্তমান যুগেও আধুনিক হিসাবে বিবেচিত হয়।
তার এমন ও আবিষ্কার ছিলো পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা, কিন্ত মানব কল্যাণ এর জন্য তিনি সেগুলো ধ্বংস করে দেন। টেসলার ব্যাক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনা যা অনেকেই জানেন না,
একবার আইনস্টাইন কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি হতে কেমন লাগে?’ উনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এর উত্তর আমার জানা নেই। আপনি নিকোলা টেসলা কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন!’
টেসলা অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। তিনি তার জীবনের শেষ ১০ টি বছর কাটান হোটেল নিউ ইয়র্কের ৩৩২৭ নম্বর রুমে। তার মরদেহ এই রুম থেকেই উদ্ধার করা হয় পরে। তার জীবনের উপর ভিত্তি করে বহু উপন্যাস লেখা আর সিনেমা বানানো হয়েছে।
টেসলা প্রাকৃতিক সম্পদের দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে বেশ সোচ্চার ছিলেন এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জ্বালানীর সমর্থক ছিলেন। তাছাড়া তিনি কীভাবে প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর থেকে চাপ কমানো যায় সেই বিষয়েও বহু গবেষণা করেছেন।
টেসলা কীভাবে মানুষের জীবন আরও উন্নত করা যায় সেই ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট ছিলেন। একজন প্রকৃত বিজ্ঞানীর মতো তিনি দিন-রাত শুধু গবেষণা নিয়েই পড়ে থাকতেন। তিনি কখনও আবিষ্কারের আর্থিক বা ব্যবসায়িক দিক নিয়ে ভাবতেন না।
বিজ্ঞানী টেসলার স্মরণশক্তি এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল যে তিনি একটা বই পড়লে তার প্রতিটি লাইন ও ছবিসহ বিশদভাবে মনে করতে পারতেন। তার প্রখর কল্পনা শক্তির কারণে ছোটবেলায় প্রায়ই ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখতেন ।
একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রায় ১২৭,০০০ ডলার সংগ্রহ করে ২০১৩ সালের মে মাসে টেসলার ৭ ফুট উঁচু একটা মূর্তি বানানো হয়। কিন্তু কয়েক মাস পরেই ডিসেম্বরে মূর্তিটি টাইম ক্যাপসুলের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং সেখানে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন বানানো হয়। অনেকে এ ঘটনাকে মজা করে বলে থাকে যে, টেসলা থেকে তাহলে আমাদের ওয়াই-ফাই জোনেরও ব্যবস্থা হয়ে গেলো।
এই মহান আবিষ্কারী/বিজ্ঞানীর জন্যে খুব আফসোস হয়। টমাস এডিসন এর মত একজন মানুষকে তিনি অনেক শ্রদ্ধা করতেন কিন্তু তিনি কি আর জানতেন যে এডিসন ছিলেন ব্যবসা কেন্দ্রিক মানুষ! এডিসন এর অহংকার আর স্বার্থপরী মানসিকতার জন্য টেসলার মত জিনিয়াস ব্যক্তির শেষ জীবনটা কাটলো অসহায়ের মত।

No comments