মৌমাছি সম্পর্কে কিছু শিক্ষনীয় মজাদার তথ্য

 


🔰শৃঙ্খল প্রাণী মৌমাছি সম্পর্কে চলুন জেনে নেই কিছু শিক্ষনীয় মজাদার তথ্য:-
🔰ত্যাগ তিতিক্ষা এবং শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে পবিত্র রিজিক গ্রহণের শিক্ষা দেওয়া চমৎকার এক প্রাণীর নাম মৌমাছি। মধু নামক শ্রেষ্ঠ তরল মিষ্টি সংগ্রহকারী মৌমাছিরা সর্বদাই শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
🔰মৌমাছির প্রকারভেদ: প্রকারভেদ অনুযায়ী প্রকৃতিতে তিন প্রকার মৌমাছির দেখা মেলে।
১.কুইন বা রানী মৌমাছি
২.ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি ও
৩.কর্মী মৌমাছি।
🔰মৌমাছিদের কাজ: প্রকারভেদ অনুযায়ী মৌমাছিদের কাজকর্ম বিশ্লেষণ করলে যে কেউ বলতে পারবে যে, পৃথিবীর অন্যতম শৃংখল প্রানীদের মধ্যে মৌমাছি রয়েছে একেবারেই প্রথম সারিতে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে জেনেই নিন মৌমাছিদের কাজ সম্পর্কে:-
🔸কুইন মৌমাছি বা রানী মৌমাছি:- রানী মৌমাছি এর প্রধান কাজ পুরুষ মৌমাছির সাথে মিলিত হওয়া এবং বংশ বৃদ্ধি করা। এবং মৌচাকের অন্য সকল মৌমাছিকে দিক নির্দেশনা প্রদান করা।আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, একটা মৌচাকে কেবলমাত্র একটাই রানী মৌমাছি থাকে। কোন মৌচাকে যদি একাধিক মৌমাছির আবির্ভাব হয় তাহলে তাকে মৌচাক থেকে বের করে দেওয়া হয়।
🔸ড্রোন/ পুরুষ মৌমাছি:- মৌচাকে অনেকগুলো পুরুষ মৌমাছি থাকলেও মাত্র কয়েকজন পুরুষ মৌমাছিই রানী মৌমাছিকে ডিম উৎপাদনে সাহায্য করে। এটাই পুরুষ মৌমাছির একমাত্র কাজ।
🔸শ্রমিক মৌমাছি:-
"ওই ফুল ফোটে বনে
যাই মধু আহরণে
দাড়াবার সময়তো নাই।"
সত্যিই তাই! হ্যাঁ, শ্রমিক মৌমাছির কোথাও দাড়ায়ে খোস গল্প করার সময় নাই। থাকবেই বা কিভাবে!! মৌচাকের যাবতীয় সকল কাজ কর্ম সহ মধু আহরণের কাজও করতে হয় এই শ্রমিক মৌমাছিকেই। শ্রমিক মৌমাছি মুলত স্ত্রী মৌমাছি হলেও ডিম উৎপাদন করতে পারে না তাই তাদের বন্ধা মৌমাছিও বলা হয়। শ্রমিক মৌমাছি দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের কাজ ভাগ করে টিম ওয়ার্ক করে কাজের সুশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। একদল মৌচাকের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়জিত থাকে, একদল বাচ্চা মৌমাছি/ লার্ভার যত্নে নিয়জিত থাকে তো অন্যদল নিয়জিত থাকে মধু আহরণের কাজে। শ্রমিক মৌমাছিদের কি সুন্দর কার্য শৃঙ্খলা তাই না!!
🔰মৃত মৌমাছির সৎকার:- বিষয়টা অবাক করার মতো তাই না? তবে এই বিষয়টা একেবারেই সত্য কারণ পরিচ্ছন্নতার সাথে মৌমাছিরা আপোষ করতে একেবারেই নারাজ। আর তাই তো মধু এতটুকু বিশুদ্ধতার পরিচয় দিতে পারে।
মৌচাকে থাকা ১/২% মৌমাছি সৎকার কাজ করে থাকে যাদেরকে 'Undertaker bees' বলা হয়। এই মৌমাছিগুলো ১২-১৭ দিনের কর্মী মৌমাছি।
মৌচাকে কোন মৌমাছি মারা গেলে 'Undertaker bees' ৩০মিনিটের মধ্যে মৃতেদহ খুজে বের করে মৌচাক থেকে দূরে ফেলে রেখে আসে। পিং ওয়েনের গবেষণা পত্রে মৃত মৌমাছি সম্পর্কে এমন অনেক বিষয় পাওয়া যায়।
🔰ত্যাগী মৌমাছি:- শেষ বয়সে পরিবারের সাথে থেকে হেসে খেলে মৃত্যুবরণ করার কথা আমরা সবাই ভাবি কিন্তু মৌমাছিরা সেই ইচ্ছাটাকেও গণ্য করে না পরিবারের কষ্টের কথা ভেবে।
আয়ু শেষ হয়ে গেছে বুঝতে পারলে কিছু মৌমাছি চাক ছেড়ে দূরে চলে যায়, যাতে মৌচাকের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। নিজ সম্প্রাদায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে জীবনের শেষ সময়টা আপনজনদের থেকে দূরে থাকার অসামান্য এই ত্যাগ অনন্য শিক্ষনীয় বিষয়।
🔰মৌমাছির গড় আয়ু:- মৌমাছির গড় আয়ু মৌসুমের উপর নির্ভর করে।
🔸রানী মৌমাছির গড় আয়ু ৩-৫ বছর
🔸শ্রমিক মৌমাছির গড় আয়ু ১.৫-২ মাস।
🔸পুরুষ মৌমাছির গড় আয়ু ৫৫ দিন
🔰পৃথিবীতে মৌমাছির প্রভাব:- মধু খাওয়ার লোভে বা পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে মৌমাছির হুলের যন্ত্রণা হজম করতে না পেরে অনেকেই হয়তো রাগের মাথায় বলে থাকেন, পৃথিবীতে মৌমাছি না থাকলেই হতো! কি দরকার ছিল এই আজব প্রাণীটার?
দরকার ছিলো। কেননা উন্নত এই বিশ্বের একদল গবেষক বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে তাদের অভিমত প্রকাশ করে জানিয়ছেন যে, যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছি হারিয়ে যায় তাহলে মানব সভ্যতা টিকবে মাত্র ৪ বছর।
আরও জানা যায় যে, বিশ্বে ১০০ রকমের ফল আর ৯০ ভাগ খাদ্য শস্যেরই পরাগায়ন ঘটে মৌমাছির মাধ্যমে।
এবার স্বাভাবিক মস্তিষ্কেই ভেবে দেখুন তো, যদি পৃথিবীতে ফুল না থাকে কতটা বেমানান লাগবে? যদি ফল আর শস্য না থাকে তাহলে মানুষের আহারের ব্যাবস্থা কিভাবে হবে?
এবার বুঝতে পারছেন তো মৌমাছি প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য কতটা প্রয়োজন রয়েছে সুন্দর এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য।
🌺ধন্যবাদ🌺
©Aliza Aziz


No comments

Powered by Blogger.