মৌমাছি সম্পর্কে কিছু শিক্ষনীয় মজাদার তথ্য
১.কুইন বা রানী মৌমাছি
২.ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি ও
৩.কর্মী মৌমাছি।
"ওই ফুল ফোটে বনে
যাই মধু আহরণে
দাড়াবার সময়তো নাই।"
সত্যিই তাই! হ্যাঁ, শ্রমিক মৌমাছির কোথাও দাড়ায়ে খোস গল্প করার সময় নাই। থাকবেই বা কিভাবে!! মৌচাকের যাবতীয় সকল কাজ কর্ম সহ মধু আহরণের কাজও করতে হয় এই শ্রমিক মৌমাছিকেই। শ্রমিক মৌমাছি মুলত স্ত্রী মৌমাছি হলেও ডিম উৎপাদন করতে পারে না তাই তাদের বন্ধা মৌমাছিও বলা হয়। শ্রমিক মৌমাছি দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের কাজ ভাগ করে টিম ওয়ার্ক করে কাজের সুশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। একদল মৌচাকের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়জিত থাকে, একদল বাচ্চা মৌমাছি/ লার্ভার যত্নে নিয়জিত থাকে তো অন্যদল নিয়জিত থাকে মধু আহরণের কাজে। শ্রমিক মৌমাছিদের কি সুন্দর কার্য শৃঙ্খলা তাই না!!
মৌচাকে থাকা ১/২% মৌমাছি সৎকার কাজ করে থাকে যাদেরকে 'Undertaker bees' বলা হয়। এই মৌমাছিগুলো ১২-১৭ দিনের কর্মী মৌমাছি।
মৌচাকে কোন মৌমাছি মারা গেলে 'Undertaker bees' ৩০মিনিটের মধ্যে মৃতেদহ খুজে বের করে মৌচাক থেকে দূরে ফেলে রেখে আসে। পিং ওয়েনের গবেষণা পত্রে মৃত মৌমাছি সম্পর্কে এমন অনেক বিষয় পাওয়া যায়।
আয়ু শেষ হয়ে গেছে বুঝতে পারলে কিছু মৌমাছি চাক ছেড়ে দূরে চলে যায়, যাতে মৌচাকের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। নিজ সম্প্রাদায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে জীবনের শেষ সময়টা আপনজনদের থেকে দূরে থাকার অসামান্য এই ত্যাগ অনন্য শিক্ষনীয় বিষয়।
দরকার ছিলো। কেননা উন্নত এই বিশ্বের একদল গবেষক বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে তাদের অভিমত প্রকাশ করে জানিয়ছেন যে, যদি পৃথিবী থেকে মৌমাছি হারিয়ে যায় তাহলে মানব সভ্যতা টিকবে মাত্র ৪ বছর।
আরও জানা যায় যে, বিশ্বে ১০০ রকমের ফল আর ৯০ ভাগ খাদ্য শস্যেরই পরাগায়ন ঘটে মৌমাছির মাধ্যমে।
এবার স্বাভাবিক মস্তিষ্কেই ভেবে দেখুন তো, যদি পৃথিবীতে ফুল না থাকে কতটা বেমানান লাগবে? যদি ফল আর শস্য না থাকে তাহলে মানুষের আহারের ব্যাবস্থা কিভাবে হবে?
এবার বুঝতে পারছেন তো মৌমাছি প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য কতটা প্রয়োজন রয়েছে সুন্দর এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য।
©Aliza Aziz

No comments