অনলাইন থেকে আয় করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রধান ৭টি কারণ এবং সমাধান
আসসালামুয়ালাইকুম সবাই, আজ আমরা খুব দরকারি বিষয় জানতে যাচ্ছি। লিখাটা বেশ বড় হওয়ায় আমরা একটু সময় নিয়ে ৭টি পর্বে জানার চেষ্টা করব..
অনলাইন থেকে আয় করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রধান ৭টি কারণ এবং সমাধান
লিখছেন- Mosiniur Rahman
01 : SHINY OBJECT SYNDROME
আপনার সাথে একটু বিস্তারিত আলোচনা করছি এই বিষয়টি নিয়ে। মনে করেন আপনি কোথাও দেখেছেন কেউ একজন ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শিখে একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার উপার্জন করছে।
এখন আপনিও স্বপ্ন দেখছেন বা আপনার অনেক ইচ্ছে তলার উপার্জন করবেন ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শিখো। আপনি শেখা শুরু করলেন এবং ধরে নিচ্ছি আপনি ১-২ মাস এই বিষয় নিয়ে স্কিল ডেভেলপ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সময়ে হঠাৎ একদিন আপনার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলেন অথবা ফেসবুকে স্ক্রোল করতে করতে আপনার সামনে আসলো ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে সহজে অনেক বেশী টাকা ইনকাম করা যায়। এখন খুব বেশী চিন্তা ভাবনা না করে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শেখা বাদ দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা শুরু করলেন।
এখন আপনি মনোযোগ দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছেন। কিছুদিন পর হয়তো আপনি ইউটিউবের কোন অ্যাড বা কারোও মাধ্যমে জানতে পারলেন গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপারে। ভিজিটাল মার্কেটিং যতটা সহজ ভেবেছিলেন হয়তো এতোটা সহজ না এখন আপনি এই পর্যায়ে এসে আবার গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার চিন্তা করছেন।
“শাইনি অবজেক্ট সিন্ড্রোম" আপনার মাঝে রয়েছে এইজন্য মূলত আপানি এমনটা করছেন। অসংখ্য স্টুডেন্ট অনলাইন থেকে কোন টাকা-পয়াসা আয় করতে না পারার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে এটি।
আপনার সামনে সবসময় অনলাইনে সহজে ইনকাম করা বা অমুক ক্যাটাগরি নিয়ে যদি কাজ করেন আহলে অল্প সময়ে ভালো করতে পারবেন এই ধরনের বিজ্ঞাপন আপনি প্রতিনিয়ত দেখবেন। এইগুলো দেখে যদি আপনি ঘন ঘন ক্যাটাগরি পরিবর্তন করেন তাহলে শুধুমাত্র আপনার টাকা এবং সময়ের অপচয় হবে। এই ব্যাপারটা সব সময় মাথায় রাখবেন।
সমাধানঃ
কোন একটি ক্যাটাগরিতে যখন আপনি এক্সপার্ট হওয়ার চিন্তা করবেন মিনিমাম যে সময় দেওয়ার দরকার সেটা দিতে হবে। যেমানঃ ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শিখে অনলাইনে ইনকাম করার জন্য মিনিমাম ৬ মাস – ১ বছর সময় হাতে নিয়ে শুরু করা উচিৎ।
অনলাইন থেকে দ্রুত ইনকাম করার জন্য কিছুদিন পর পর ক্যাটাগরি পরিবর্তন করবেন না। যে কোন একটি ক্যাটাগারি নিয়ে যদি নিয়মিত চেষ্টা করে যেতে পারেন তাহলে ঐ ক্যাটাগরিতে ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।
আপনি চিন্তা করছেন ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা উপার্জন করবেন। হয়তো আপনি কোন বিজ্ঞাপনে দেখেছেন এর থেকেও বেশী কেউ একজন ইনকাম করছে।
হাঁ এটা সত্য যে ফ্রিল্যান্সিং করে এর থেকেও অনেক বেশী টাকা ইনকাম করা যায় কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে ঐ অবস্থানে যাওয়ার জন্য আপনাকে বছরের পর বছর স্টাডি করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি একজনের সাফল্য দেখছেন কিন্তু ঐ মানুষটি সফল হওয়ার জন্য কি পরিমান স্ট্রাগল করেছে সেটা হয়তো চিন্তা করছেন না বা দেখছেন না।
আপনি আজকে শুরু করে ১ মাস পর থেকেই লক্ষ টাকা প্রতি মাসে ইনকাম করার চিন্তা করতে পারেন না। যদি এটা সম্ভব হতো তাহলে আপনার আশেপাশের সবাই সবকিছু বাদ দিয়ে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতো। সবাই কি এটা করছে?
না, করছে না। এর মানে হচ্ছে আপনি আজকে শুরু করে আগামীকালকেই রেজাল্ট আশা করতে পারেন না। আমি অনলাইনে এখন পর্যন্ত এমন কোন উপায় খুঁজে পায়নি যেটার মাধ্যমে খুব সহজে আপ সময়ে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
না, করছে না। এর মানে হচ্ছে আপনি আজকে শুরু করে আগামীকালকেই রেজাল্ট আশা করতে পারেন না। আমি অনলাইনে এখন পর্যন্ত এমন কোন উপায় খুঁজে পায়নি যেটার মাধ্যমে খুব সহজে অল্প সময়ে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ টাকা উপার্জন
সমাধানঃ
মিনিমাম ৬ মাস ১ বছর সময় নিয়ে কোন একটি ক্যাটাগরিতে স্টাতি করবেন।
৬ মাস পর প্রতি মাসে আপনার লক্ষ টাকা নাও ইনকাম আসতে পারে। হয়তো শুরুতে আপনার ১০-১৫ হাজার টাকা প্রতি মাসে ইনকাম শুরু হবে। তারপর ধীরে ধীরে এটা বাড়বে যদি আপনি ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করে যেতে পারেন।

No comments