অগমেন্টেড রিয়েলিটি VS ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
অগমেন্টেড রিয়েলিটি VS ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
অগমেন্টেড রিয়েলিটি কী, তা জানার আগে চলুন একটু কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে আসা যাক। কল্পনা করুন, আপনি মঙ্গল গ্রহে হাঁটছেন। মঙ্গলের মাটি থেকে একটা পাথর তুলে নিলেন। পাথরটা নেড়েচেড়ে দেখলেন। তারপর মনে হলো ভেঙে দেখা যাক! পাথরটা গুঁড়ো করছেন এমন সময় আপনার বন্ধু চাঁদ থেকে ভিডিও কল দিল। চাঁদের বালুভর্তি একটা প্যাকেট দিলো আপনার হাতে। আপনি মঙ্গলের পাথরের গুঁড়োর সঙ্গে চাঁদের বালু মিলিয়ে দেখলেন। এরমধ্যে সময় হয়ে গেল আপনার প্রিয় টিভি শো'র, তাই নিমেষে মঙ্গল থেকে চলে এলেন আপনার বাসার ড্রয়িং রুমে! এবার সোফায় গা এলিয়ে দেখতে লাগলেন আপনার প্রিয় শো!
কিংবা ধরুন আপনি একজন শিক্ষার্থী, পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের লেখাগুলো একঘেয়ে লাগছে , বুঝতে সমস্যা হচ্ছে , তাহলে একটু মজা করে পড়া যাক। চোখের সামনেই বইয়ের উপরেই বইয়ের সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে পুরো ব্যাপারটি স্পষ্ট করে দেওয়া হলো, মনে হবে যেন তা বাস্তবেই হচ্ছে।
এতক্ষণ যেসব কল্পনা করলেন তার মধ্যে কিন্তু একটি ব্যাপার ছিল, তা হলো বাস্তব জগতের সাথে ভার্চুয়াল জগতের সংমিশ্রণ। আর এটিই হলো অগেমেন্টেড রিয়েলিটি বা সংক্ষেপে এআর (AR)। আপনি যা দেখতে চাইবেন, আপনার চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে তা-ই দেখাবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি।
অন্যদিকে বিগত বছর দুয়েক ধরে যেসব প্রযুক্তি বেশ সাড়া ফেলেছে পৃথিবীতে, তার মধ্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ছিল শীর্ষে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়া হয় সম্পূর্ণ আলাদা জগতে, যা তৈরি করা হয় কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে। হতে পারে তা কোনো বাস্তব জগতের বিশেষ কোনো স্থানে, কিংবা হতে পারে তা কাল্পনিক জগতের জুরাসিক পৃথিবী অথবা পৃথিবীর বাইরে ভিন্ন কোনো গ্রহে।
এবার একটু দেখে আসা যাক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আর অগমেন্টেড রিয়েলিটির মধ্যে বোঝাপড়াটা কেমন ??? মূলত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আপনার মস্তিষ্ককে ধোঁকা দিয়ে আপনাকে ভার্চুয়াল জগতের আনন্দ নিতে সাহায্য করে। বাস্তবে আপনি পৃথিবীতে থাকলেও আপনার মনে হবে যেন সেই ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করছেন। অন্যদিকে, অগমেন্টেড রিয়েলিটি তৈরিতে অনেক বাড়তি প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া যায়। আর এই বৈশিষ্ট্যই এআর-কে এনে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।এর সাহায্যে বাস্তব জগতের সাথে আপনি আরো গভীরভাবে প্রতিক্রিয়া করার সুযোগ পাবেন।
এআর ও ভিআর দুটো প্রযুক্তিই পাল্টে দিতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ। চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, কনফারেন্স, ডিজাইনিং, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই আছে এর ব্যাপক চাহিদা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআর অন্যান্য সব প্রযুক্তির জায়গা দখল করে নিতে পারে। সাথে সাথে এটি আমাদের জন্য খুলে দিতে পারে অপার সম্ভাবনার দ্বার। যদিও এই দুটি প্রযুক্তিই এখনো সেভাবে বিস্তার লাভ করেনি, অভাব রয়েছে উপযোগী কনটেন্টের।
তবে গুগল, ফেসবুক কিংবা মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় কোম্পানি বসে নেই। এই খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে তারা। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই দুটো প্রযুক্তিই হবে আমাদের নিত্য সঙ্গী। কিন্তু সাধারণ মানুষ কতটা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে সেটিই মূলত ভাববার বিষয়।
পরবর্তী পোস্টে আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবঃ
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কীভাবে কাজ করে?
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রকারভেদ
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা ও অসুবিধা

No comments